নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ তদন্ত যত দ্রুত, সন্দেহও কি তত বেশি? ২১ বছর আগের একটি ঘুষের মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এন কে সিংহের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও মামলায় সিবিআই যদি ‘অতি দ্রুততার’ সঙ্গে পদক্ষেপ করে, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই সংশয় তৈরি হতে পারে।
মামলাটি ২০০৫ সালের। রেলের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ৪ অগস্ট ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলার নথি অনুযায়ী, এফআইআর দায়েরের আগেই দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৪টের মধ্যে তাঁকে হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ পেতেছিল সিবিআই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ওই আধিকারিকের কাছ থেকে সরাসরি টাকা উদ্ধার হয়নি। তাঁর হয়ে অন্য এক কর্তা টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।
এই ঘটনাপ্রবাহই শীর্ষ আদালতের নজর কেড়েছে। বেঞ্চের বক্তব্য, কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে ফাঁদ পাতা বেআইনি নয়। কিন্তু অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার আগেই যদি তদন্তকারী সংস্থা এমন পদক্ষেপ শুরু করে, তা হলে সেই তৎপরতার কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সেই সংশয়ই শেষ পর্যন্ত মামলার বিচারেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় শীর্ষ আদালত।
আদালত একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনও সরকারি আধিকারিককে ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা জরুরি। শুধু অভিযোগ বা তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা দিয়ে ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
সিবিআইকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের এমন পর্যবেক্ষণ অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার শুনানিতে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ‘খাঁচাবন্দি তোতাপাখি’ বলে মন্তব্য করেছিল শীর্ষ আদালত। ২০২৪ সালেও একটি মামলায় সিবিআইয়ের স্বাধীনতা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে ফের সেই পুরনো বিতর্ক সামনে এসেছিল।
দুই দশকের পুরনো মামলায় এ বার প্রশ্ন উঠল তদন্তের ‘গতি’ নিয়েই। আদালতের পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য সেখানেই তদন্তকারী সংস্থার দ্রুততা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সেই দ্রুততার পিছনে যথেষ্ট ভিত্তি ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা থাকাটাও জরুরি।





