খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বরঃ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হাজিরা না দিলে ‘জবাবদিহি’! তার সঙ্গে ৫০০ টাকা জরিমানার কথাও নাকি বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ জ্বালানোর অনুষ্ঠানকে ঘিরে এমনই অভিযোগে বিতর্কে জম্মুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (IIM)। পড়ুয়াদের একটি অংশের অনুপস্থিতি নিয়ে ছাত্র পরিষদের নোটিস প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ছিল মোদীর জন্মদিন। সেই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচি হয়। IIM জম্মুতেও তার আগের দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রদীপ জ্বালানোর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখানে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল এমনটাই জানানো হয়েছিল ছাত্র পরিষদের তরফে দেওয়া নোটিসে।
অভিযোগ, কয়েক জন পড়ুয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের কাছে লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। নোটিসে বলা হয়েছিল, অসুস্থতার কারণে কেউ অনুষ্ঠানে যেতে না পারলে ক্যাম্পাসের ডিসপেন্সারি ‘সঞ্জীবনী’ থেকে লিখিত প্রমাণ জমা দিতে হবে। এমনকি ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব না দিলে ৫০০ টাকা জরিমানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল বলে দাবি।
আর এই নোটিসই সামনে আসতেই শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর। কংগ্রেসের জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নসীর হুসেন প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের উপস্থিতি কেন বাধ্যতামূলক হবে? তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
তবে অভিযোগের অন্য ছবি তুলে ধরেছে IIM জম্মু। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনও পড়ুয়ার কাছ থেকেই ৫০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অকারণে রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। পাঠ্যক্রমের বাইরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ তাঁদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক এই যুক্তিও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র। ফলে আপাতত প্রশ্নটা শুধু ৫০০ টাকার জরিমানা নিয়ে নয়। প্রশ্ন উঠছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ কোথায় স্বেচ্ছার, আর কোথায় বাধ্যবাধকতার সেই সীমারেখা নিয়েই।





