কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই হিসাবের খাতা খুলে দিল নবান্ন। এ বার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শুধু অনুদানই নয়, বিদ্যুতের খরচেও ছাড়ের কথা জানানো হয়েছে। তবে সেই টাকা পেতে নিয়মও বেশ কড়া। কমিটির নামে নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলে মিলবে না সরকারি অনুদান। নির্দিষ্ট সেই অ্যাকাউন্টেই ঢুকবে এক লক্ষ টাকা।
অনুদান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে পুজো কমিটিগুলির কাছ থেকে একাধিক তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আবেদন করতে হবে কমিটির সভাপতি অথবা সম্পাদককে। কমিটির লেটারহেডে তৈরি আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। তার সঙ্গে দিতে হবে কমিটির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ক্যানসেলড চেক এবং পাসবুকের প্রথম পাতার প্রতিলিপি।
এখানেই শেষ নয়। গত বছরের পুজোর অনুমতিপত্রের কপিও জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে গত বছরের পুজোর আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বরের তালিকাও দিতে হবে লেটারহেডে।
সরকারি অনুদানের হিসাব নিয়েও এ বার নজরদারি আরও স্পষ্ট। গত বছর পাওয়া সরকারি অনুদানের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ জমা দেওয়ার স্বীকৃতিপত্রের কপিও আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারি টাকা কোথায় এবং কী ভাবে খরচ হয়েছে, তার নথিও আবেদনের অংশ।
পালাবদলের পর এ বার বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো। চলতি মাসের ৭ তারিখ মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই এক লক্ষ টাকা অনুদানের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি পুজোয় বিদ্যুতের টাকা না নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে উদ্বোধন নিয়েও এবার রয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাতৃপক্ষের আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। মহালয়ার পরেই শুরু হবে উদ্বোধন পর্ব।
আরও একটি বড় বদল হয়েছে পুজোর পরের আয়োজনে। আগের সরকারের আমলে রেড রোডে দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হত। এ বার নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে সেই কার্নিভ্যাল বন্ধ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ অনুদান থাকছে, সুবিধাও থাকছে কিন্তু তার সঙ্গে থাকছে হিসাবের কড়া নিয়মও।





