মুর্শিদাবাদ, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ লড়াই বিজেপির সঙ্গে, তৃণমূলের সঙ্গে নাকি বামেদের নিজেদের মধ্যেই? রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে। সিপিএম এবং আরএসপি আগেই আলাদা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল। মঙ্গলবার দু’দলের প্রার্থীই পৃথক ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় স্পষ্ট হল, আপাতত বাম ঐক্যের অঙ্কে মিলছে না হিসাব।
রেজিনগরে সিপিএমের প্রার্থী আইনজীবী সাঈদ আসাদ আলি। আরএসপি প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র। মঙ্গলবার বহরমপুরের জেলাশাসকের দফতরে দু’জনেই আলাদা ভাবে মনোনয়ন জমা দেন। ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিজেপি, তৃণমূলের দুই শিবির এবং অন্য দলগুলির পাশাপাশি একই বাম পরিসর থেকেও দুই প্রার্থী লড়াইয়ে থাকছেন।
আরএসপির বক্তব্যে সেই অনড় অবস্থানই স্পষ্ট। বিকাশচন্দ্রের দাবি, রেজিনগরে বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই কেন্দ্রে আরএসপির নিজস্ব ভোটভিত্তিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে তাঁরাই লড়াই করে এসেছেন। তাই এ বারও আসনটি ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই।
সিপিএমের প্রার্থী সাঈদ আসাদ আলি অবশ্য এই নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে যেতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে রেজিনগরে বিজেপির বিরুদ্ধেই তাঁর লড়াই এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? বামেদের অন্দরের হিসাব বলছে, রেজিনগর বরাবরই আরএসপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস সমঝোতার সূত্রে আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়েছিল বামেরা। এখন সেই জোট নেই। ফলে উপনির্বাচনে আরএসপি প্রার্থী দেবে এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনা ছাড়াই সিপিএম প্রার্থী ঘোষণা করে। তার পরেই পাল্টা প্রার্থী দেয় আরএসপি।
বিকাশচন্দ্র সরাসরি সিপিএমের নাম না করলেও ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’র দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর কথায়, এমন সময়ে যখন ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বামপন্থীদের ঐক্য আরও শক্ত হওয়া প্রয়োজন, তখন আধিপত্যের মানসিকতা তৈরি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর দাবি, প্রকৃত বামপন্থা ও ভূমি আন্দোলনের কথা সামনে রেখেই তাঁরা রেজিনগরের মানুষের কাছে যাবেন।
এই পরিস্থিতিতে অবশ্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ভোটের অঙ্ক। বামেদের দুই প্রার্থী কি পরস্পরের ভোট কাটবেন? তাতে সুবিধা হবে কোন শিবিরের? নাকি শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতার রাস্তা খুলবে? রেজিনগরে যখন বহু-কোণী লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে, তখন বামেদের ঘরের এই দ্বন্দ্বই ভোটের ফলাফলে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।





