কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ কেটে গিয়েছে ২০ দিন। তবু কোনও খবর নেই। ফোনের ওপারে সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর নেই, দরজার সামনে নেই অপেক্ষার অবসান। নেপালে হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ গলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিকের আর কোনও সন্ধান মেলেনি। হালিশহরের বাড়িতে তাই এখন অপেক্ষাই যেন একমাত্র বাস্তবতা।
দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। গত ২৫ আগস্ট রাতে পরিবারের সঙ্গে শেষ বার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল তাঁর। জানিয়েছিলেন, ভিসা হাতে এসেছে। পর দিনই চিন সীমান্তের দিকে, মানস সরোবরের পথে রওনা দেওয়ার কথা।
তার পরের দিনই নেপালে নেমে আসে বিপর্যয়। হড়পা বান এবং হিমবাহ হ্রদ গলার জেরে প্রাণ যায় বহু মানুষের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গেরও একাধিক পরিবারের সদস্যের কোনও সন্ধান মেলেনি।
শর্মিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সেই অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে হাল ছাড়ছেন না শুভ্রাংশু। বরং বার বার আশার কথাই বলছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিপর্যয়ের আগেই শর্মিষ্ঠারা চিন সীমান্তের নিরাপদ এলাকায় পৌঁছে গিয়ে থাকতে পারেন। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, চিনের একটি সংস্থার কাছ থেকে এমন একটি সূত্র পাওয়া গিয়েছে। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই তাঁর ধারণা, চিন সীমান্তেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে শর্মিষ্ঠাদের অবস্থান সংক্রান্ত কোনও তথ্য।
তবে সেই আশার পাশাপাশি সরকারের কাছে তাঁর আবেদনও স্পষ্ট। নিখোঁজ পর্যটকদের ছবি-সহ নাম প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা সামনে এলে নিখোঁজ পরিবারগুলির উদ্বেগ অনেকটাই কমতে পারে।
এবার সেই আশার খোঁজেই নবান্নে যাচ্ছেন শুভ্রাংশু। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠিয়েছেন। শুভ্রাংশুর সঙ্গে তাঁর মেয়েও সেখানে যাবে। অন্যান্য পরিবার থেকেও দু’জন করে সদস্য উপস্থিত থাকবেন।
শুভ্রাংশুর বিশ্বাস, সরকারি স্তরে ভারত ও চিনের মধ্যে সমন্বয় হলে এই রহস্যের জট খুলতে পারে। তাঁর কথায়, তিনি শুধু নিজের স্ত্রীর জন্য উত্তর চান না নিখোঁজ প্রত্যেক পরিবারের উৎকণ্ঠার অবসান চান।
২০ দিন ধরে যে বাড়িতে অপেক্ষা থামেনি, বুধবার নবান্নের বৈঠক সেই অপেক্ষায় কোনও নির্দিষ্ট খবর আনতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শর্মিষ্ঠার পরিবার। আশার সঙ্গে লড়াই করছে অনিশ্চয়তাও।





