কোচবিহার, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ জেলা কংগ্রেসের মসনদে ফের বিশ্বজিৎ সরকার। সভাপতি নির্বাচন ঘিরে কয়েক দিন আগেই দলের অন্দরের কোন্দল, উত্তেজনা এমনকি মারামারির অভিযোগে সরগরম হয়েছিল কোচবিহার। সেই আবহের মধ্যেই ফের জেলা কংগ্রেসের দায়িত্ব পেলেন বিশ্বজিৎ। আর পুনর্নির্বাচনের পর মঙ্গলবার কোচবিহারে ফিরতেই তাঁকে ঘিরে দেখা গেল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
হুটখোলা গাড়িতে চেপে দলীয় কর্মীদের মিছিলের সঙ্গে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে পৌঁছন বিশ্বজিৎ। সেখানে কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। শুরুতেই অবশ্য জেলা সভাপতি নির্বাচন ঘিরে প্রকাশ্যে আসা গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ খারিজ করে দেন বিশ্বজিৎ।
তাঁর দাবি, কংগ্রেসের মধ্যে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল না। বরং তৃণমূল থেকে আসা কিছু ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ব্যক্তি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নন এমন কয়েক জন দলকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের কারণেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
জানা গিয়েছে, মোট ১১টি প্যারামিটারের ভিত্তিতে জেলা সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াতেই জয়ী হয়ে দ্বিতীয় বার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেলেন বিশ্বজিৎ। দায়িত্ব ফিরে পেয়ে অবশ্য দলের সংগঠনের গণ্ডি পেরিয়ে বিজেপি এবং এনসিপিআই সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকেও নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ী সমিতি জোর করে দখলের চেষ্টা এবং পুরসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না মানুষ। বিধায়ক বা পুরসভার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আত্মীয়দের নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। কড়া হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “বেশি লাফালাফি করলে লেজ কেটে দেব।”
জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে নিয়েও আক্রমণাত্মক বিশ্বজিৎ। তাঁকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি। পাশাপাশি তাঁর দাবি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ যেমন রায় দিয়েছে, বিজেপি বর্তমানে যে ভাবে কাজ করছে, তাতে আগামী দিনে তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে জনতা।
বিশ্বজিতের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব এসেছে বিজেপির তরফে। জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বিরাজ বোস কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “সলতের মতো জ্বলছে কংগ্রেস।” তাঁর দাবি, জেলা সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল, তা কোচবিহারের মানুষ দেখেছেন। সেই দলের সভাপতির মুখে বড় বড় কথা মানায় না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
পুরসভা প্রসঙ্গেও বিশ্বজিতের অভিযোগ খারিজ করেছেন বিরাজ। তাঁর দাবি, তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের সময়ে নানা কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের প্রশাসক দায়িত্বে রয়েছেন এবং পুরসভা স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।
কংগ্রেস সভাপতিকে নিশানা করে বিরাজের আরও কটাক্ষ, “ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন, বড় বড় বাটেলা মারছেন।” তাঁর দাবি, সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই বিশ্বজিৎ এমন মন্তব্য করছেন।
বিশ্বজিতের পুনর্নির্বাচনের দিনই তাই কোচবিহারে ফের মুখোমুখি কংগ্রেস-বিজেপি। সভাপতি বদলাল না, বদলাল না রাজনৈতিক ভাষাও। বরং নতুন করে শুরু হল পুরনো তরজারই আর এক পর্ব।





