কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেছেন। তার মধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিল কালীঘাট তৃণমূলের জোট-প্রস্তাব। বিজেপিকে রুখতে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সাড়া দিল না কংগ্রেস। বরং পাল্টা শর্ত সামনে রেখে হাত শিবির বুঝিয়ে দিল, জোটের দরজা আপাতত খোলা নয়।
সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেন মমতা। নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেসের সমর্থন চাওয়া হয়। অর্থাৎ, দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট ভাগ’ আটকানোর লক্ষ্যই ছিল এই প্রস্তাবের নেপথ্যে।
কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলেই খবর। বরং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জোটের ইচ্ছা থাকলে আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করুক কালীঘাট তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, এই উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করলে ভবিষ্যতে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কংগ্রেসের এই অবস্থানের পিছনে পুরনো ক্ষতও রয়েছে। ২০১১ সালে বামেদের সরাতে তৃণমূল ও কংগ্রেস একসঙ্গে লড়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই জোট বেশিদিন টেকেনি। ২০১২ সালেই সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল। পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ বার বার উঠেছে। মমতার জোট-প্রস্তাব সামনে আসার পর কংগ্রেসের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের একাংশের আপত্তিও সামনে এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটের অঙ্কও সহজ নয়। ৬ অক্টোবর ভোট। দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের মিলন প্রধান, কালীঘাট তৃণমূলের সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতপন্থী তৃণমূলের এহতাশামুল হক। রেজিনগরে কংগ্রেসের মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি, কালীঘাট তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতপন্থী তৃণমূলের সফিউজ্জমান শেখ।
ফলে উপনির্বাচনের লড়াই শুধু বিজেপি বনাম তৃণমূলের অঙ্কে আটকে থাকছে না। তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক-দ্বন্দ্ব, কংগ্রেসের পৃথক লড়াই এবং বিজেপিকে ঠেকাতে সম্ভাব্য ভোট-সমীকরণ সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতিতে নতুন পরীক্ষাগার। মমতার প্রস্তাব আপাতত ফিরিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। এখন দেখার, ভোটের ফল কি সেই ‘না’-কে আরও শক্ত করবে, নাকি পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের দরজা ফের খুলে দেবে।





