নন্দীগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ জল্পনাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেন প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবারই তাঁর মনোনয়ন পেশ করার কথা। তার আগে সোমবার হলদিয়ায় হাসিরানিকে পাশে নিয়ে সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের ভোটযুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এল আবেগ, আস্থা এবং ‘গড়’ ধরে রাখার রাজনৈতিক বার্তা।
নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশে সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘‘সকলের ছাদ-ভাত-কাজ আমার অঙ্গীকার।’’ একই সঙ্গে নিজের নির্বাচনী কৌশলের উপর আস্থার কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, এ বারও এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা কেউ ভাবতে পারছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ভোট করাতে জানি। এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব, কেউ ভাবতে পারছেন না।’’
নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুর রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হত। নিজের রাজনৈতিক গড় নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পরই কেন্দ্রটি বিধায়কশূন্য হয়। সেই আসনেই এ বার উপনির্বাচন।
তবে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে জল্পনা ছিল অন্য জায়গায়। কয়েক দিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল, শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাতেই সিলমোহর পড়ল।
প্রার্থী ঘোষণার পর হাসিরানিকে পাশে নিয়ে শুভেন্দুর সভা সেই সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মঞ্চ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে এসেছি।’’ অর্থাৎ নন্দীগ্রামের লড়াইকে তিনি শুধু উপনির্বাচন হিসেবে দেখছেন না, পুরনো রাজনৈতিক সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা হিসাবেও তুলে ধরছেন।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। প্রার্থী ঘোষণার দৌড়ে বিজেপি শেষ দলগুলির মধ্যে থাকলেও, হাসিরানি রথের নাম সামনে আসার পর নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হল। এখন প্রশ্ন, ব্যক্তিগত আবেগ ও শুভেন্দুর সাংগঠনিক শক্তির এই সমীকরণ কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়।





