কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ বামফ্রন্টে আসন বণ্টন মানেই এত দিন ছিল পুরনো সমঝোতার হিসাব। কোন আসনে কোন শরিক বরাবর লড়েছে, কোথায় কার ‘সিটিং’ প্রার্থী বাছাইয়ের সময় সেই ইতিহাসের ওজন কম ছিল না। কিন্তু বদলে যেতে পারে সেই চেনা রীতি। রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করে শরিকদের কার্যত নতুন বার্তা দিল সিপিএম অতীতের আসন সমঝোতার চেয়ে এ বার গুরুত্ব পেতে পারে বর্তমান সাংগঠনিক শক্তি।
১৯৮২ সাল থেকে বামফ্রন্টের আসন বণ্টনে যে প্রচলিত কাঠামো চলে আসছে, তা হুবহু অনুসরণ করার পক্ষপাতী নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দলের অন্দরের যুক্তি, গত কয়েক বছরে বামেদের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেকটাই বদলেছে। কোথাও শরিক দলের সংগঠন দুর্বল হয়েছে, কোথাও আবার সিপিএম বা অন্য কোনও বাম দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বেড়েছে। ভোটের সমীকরণও আগের জায়গায় নেই। ফলে শুধুমাত্র ‘এই আসনটি বরাবর ওই দলের’ এই যুক্তিতে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন ঘটবে না।
সিপিএমের নতুন ভাবনায় তাই আসন বণ্টনের মাপকাঠিতে উঠে আসছে সংগঠন। যে আসনে যে শরিকের বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী, লড়াই করার ক্ষমতা বেশি, সেই দলকেই সেখানে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, পুরনো ‘সিটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর বদলে এ বার জায়গা করে নিতে পারে ‘গ্রাউন্ড স্ট্রেংথ’।
রেজিনগর সেই বদলের প্রথম বড় ইঙ্গিত বলেই দেখছেন বাম রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা। আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বামফ্রন্টের শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সিপিএম প্রার্থী ঘোষণা করায় শরিকদের একাংশে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে সেই আপত্তিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে সংগঠনের বর্তমান অবস্থানকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে সিপিএম।
অবশ্য নন্দীগ্রামকে এই সূত্রের বাইরে রাখছেন বামফ্রন্টের নেতারা। অর্থাৎ, সব আসনে একই মাপকাঠি প্রয়োগ হবে না, এমন ইঙ্গিতও রয়েছে।
রেজিনগর নিয়ে টানাপড়েন তাই শুধু একটি আসনে কে লড়বেন, সেই প্রশ্নে আটকে থাকছে না। এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বামফ্রন্টের আসন সমঝোতায় ইতিহাসের জায়গা কি এ বার নিতে চলেছে সংগঠনের বর্তমান শক্তি? আসন্ন নির্বাচনে সেই উত্তরই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।





