আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

 ‘আমি করেছি বলে তোমরা করো না’, মেয়েকে একা বড় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন আক্ষেপ নীনা গুপ্তার?

Published on: September 13, 2026
---Advertisement---

খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ এক দিকে প্রেম, অন্য দিকে সমাজের চোখ। তার মাঝখানে আসতে চলেছে এক সন্তান। আশির দশকের শেষ দিকে এমন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে পিছিয়ে যাননি নীনা গুপ্তা। বিয়ে না করেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আজ, বহু বছর পরে সেই সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে তাকিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর গলায় শোনা গেল অন্য সুর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিশে থাকা আক্ষেপ, আর মেয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে নীনার সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যেই ছিল। কিন্তু ভিভিয়ান তখন বিবাহিত। ফলে তাঁদের সম্পর্ক বৈবাহিক পরিণতি পায়নি। সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা নীনা সমাজের নানা প্রশ্ন, চাপ এবং প্রচলিত ধারণাকে পিছনে ফেলে মেয়েকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মেয়েই আজ পরিচিত ডিজাইনার মাসাবা গুপ্তা নামে।

কিন্তু একা মা হয়ে সন্তানকে বড় করে তোলার পথ যে সহজ ছিল না, তা বহু বছর পর অকপটে জানালেন নীনা। এক সর্বভারতীয় বিনোদনমূলক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সিদ্ধান্তকে অন্যদের জন্য কোনও ‘আদর্শ’ হিসেবে দেখতে চান না।

নীনার কথায়, তিনি কাউকে একক অভিভাবক হওয়ার পথে হাঁটতে উৎসাহিত করবেন না। কারণ, তাঁর অভিজ্ঞতায় এই জীবনযাত্রা শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক তিন দিক থেকেই অত্যন্ত চাপের। শুধু অভিভাবকের উপর নয়, তার প্রভাব পড়তে পারে সন্তানের মানসিক বিকাশেও।

তবে সমাজ কী বলল, তা নীনার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল না। বরং মেয়ের সামনে সত্যিটা কী ভাবে তুলে ধরা হবে, সেটাই ছিল তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোটবেলা থেকেই মাসাবাকে বাবার পরিচয় সম্পর্কে সত্যি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেয়ের মনে বাবার প্রতি যেন কোনও বিদ্বেষ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন।

এই জায়গাতেই নীনার মাতৃত্বের আর একটি দিক সামনে আসে। মাসাবার বেড়ে ওঠার সময় বাবাকে পাশে না পাওয়ার জন্য মেয়ের কাছে একাধিক বার ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তকে retrospectively ‘ভুল’ বলেও উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর উপলব্ধি, সন্তানকে নিজের মতো করে মানুষ করার চেষ্টা করলেও বাবার অনুপস্থিতির জায়গাটি মুছে ফেলা যায় না।

তবে সেই সম্পর্কের গল্পে তিক্ততার জায়গা তৈরি হতে দেননি নীনা। মাসাবার বিয়ের সময় মেয়েকে আশীর্বাদ করতে হাজির ছিলেন ভিভিয়ান রিচার্ডসও। অর্থাৎ, সম্পর্কের জটিল সমীকরণের মধ্যেও মেয়ের জীবনে বাবার জায়গাটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেননি কেউই।

আজ পিছনে তাকিয়ে তাই নীনার বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়ে সাহস এবং সংশয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর নিজের। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের মূল্যও তাঁকেই দিতে হয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর বার্তা জীবনের এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেগের পাশাপাশি ভাবতে হবে বাস্তবতার কথাও। কারণ, একটি সিদ্ধান্ত শুধু একজনের জীবন বদলায় না, তার ছায়া পড়ে সন্তানের জীবনেও।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment