কালিম্পং, ৮ সেপ্টেম্বরঃ আকাশের মুখ ভার। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ে সশরীরে পৌঁছতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মসূচি থামল না। মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংয়ের বৈঠকে যোগ দিয়ে একদিকে যেমন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিলেন, অন্য দিকে পাহাড়ের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি। অর্থাৎ, পাহাড়ে বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকলেও প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট উন্নয়ন থামবে না, অনিয়মও বরদাস্ত হবে না।
কালিম্পংবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রক্রিয়ায় গতি আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য সচিবকে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী কালিম্পং সফরে মেডিক্যাল কলেজের ভূমিপূজন করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেছে সরকার। জেলায় ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৩১১টি কার্ড সক্রিয় হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় না আসা মানুষদের ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’র অধীনে এনে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে উন্নয়নের পাশাপাশি এ দিনের বৈঠকে সবচেয়ে কড়া বার্তা এসেছে জিটিএ-কে ঘিরে। শিক্ষক নিয়োগ, পানীয় জলের ‘অমৃত’ প্রকল্প এবং লেপচা-তামাং বোর্ড-সহ ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ ব্যবহারে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। সরকারি অর্থ তছরুপের প্রমাণ মিললে এফআইআর, গ্রেফতার এবং অর্থ উদ্ধারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্যোগের আশঙ্কাও এ দিনের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। নেপাল ও পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ধসের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ২৫৪ কোটি টাকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিলের কথা জানানো হয়েছে। গত বছরের ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কালিম্পংয়ের ৭৩টি পরিবারকে জমির পাশাপাশি পরিবার-পিছু আরও তিন লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে।
সামাজিক প্রকল্পেও পাহাড়কে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পংয়ের ১৫ হাজার যোগ্য মহিলার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় মাসে তিন হাজার টাকা করে সহায়তা শুরু হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে জমি থাকা ৮,৩২৫টি গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির অনুমোদনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বৃষ্টি, ধস, দুর্যোগ পাহাড়ের বাস্তবতা কঠিন। সেই বাস্তবতার মধ্যেই সরকারের বার্তা একটাই: পাহাড়ে উন্নয়নের গতি যেমন থাকবে, তেমনই সরকারি অর্থের অপচয় বা দুর্নীতির ক্ষেত্রেও থাকবে ‘জিরো টলারেন্স’।





