নন্দীগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের দিন ঘোষণা হতেই নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তার মধ্যেই মঙ্গলবার নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দফতরে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি না থাকায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কি আদৌ প্রার্থী দেবে জোড়াফুল শিবির?
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। বৈঠকে প্রায় সমস্ত দলের প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুপস্থিত তৃণমূল। বৈঠক শেষে নির্বাচনী নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত জানান জেলাশাসক। তৃণমূলের অনুপস্থিতি নিয়ে অবশ্য জেলার শাসকদলের নেতারা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
নন্দীগ্রামের এই ভোটের পিছনে রয়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনের হিসাবও। ওই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ভবানীপুর থেকেও নির্বাচিত হওয়ায় নিয়ম মেনে পরবর্তী সময়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। সেই শূন্য আসনেই এবার উপনির্বাচন।
তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার কেন্দ্রে এখন ভোটের লড়াইয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙন ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একাংশ মূল সংগঠন থেকে সরে গিয়ে পৃথক শিবির তৈরি করেছেন বলেও দাবি। ফলে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত শিবির’-এর মধ্যে দলের আসল নিয়ন্ত্রণ, নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার অধিকার শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে? প্রশাসনের সর্বদলীয় বৈঠকে দলের কোনও প্রতিনিধি না পাঠানোর পিছনে কি সেই আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতাই দায়ী? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জোড়াফুলের নাম ও প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই আপাতত দূরত্ব বজায় রাখছে দল। অর্থাৎ, নন্দীগ্রামে ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নটা অন্য জায়গায় লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূল থাকবে তো?





