আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

‘বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছেছিল’, বাম-তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর

Published on: September 3, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ শিক্ষা নিয়ে রাজনীতির উত্তাপ নতুন করে বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন থেকে পরবর্তী সরকারের সময়কাল দুই পর্বকেই কাঠগড়ায় তুলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করলেন তিনি। তাঁর দাবি, এক সময়ে বাংলায় ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সরকারের শেষ দশকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সময়মতো পরিবর্তন না এলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়ত বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার কলকাতার গোলপার্কে আরএসএসের একটি শাখা সংগঠনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বিস্তর অভিযোগ। বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর মূল অভিযোগ, ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে কার্যত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর পরবর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, বাংলার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তন সঠিক সময়ে না এলে রাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। এমনকি রাজ্যে ‘ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশপ্রেমের চেতনা জোরদার করার কথাও বলেন তিনি। ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর হুঁশিয়ারি, তা না হলে সরকারি অনুদান ও সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

শুধু ইংরেজি শিক্ষা নয়, পাঠ্যক্রম ও ইতিহাসের বিষয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারগুলি পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে আড়াল করেছিল। ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এর পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষকের পদের মর্যাদা নষ্ট এবং শিক্ষাঙ্গনে বিভাজনের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু চাকরি পাওয়ার জায়গা নয় সেখানে জ্ঞান, মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া জরুরি।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা নীতি, ইতিহাসের পাঠ, ইংরেজি শিক্ষা থেকে শুরু করে দেশপ্রেম সবকিছুকেই রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়েছে। ফলে গোলপার্কের মঞ্চ থেকে ওঠা এই বক্তব্য যে শুধু শিক্ষা নিয়ে নয়, বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দিল, তা বলাই যায়।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment