কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের পর এ বার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া ও রূপরেখা চূড়ান্ত করতে দিল্লির চাণক্যপুরীতে বঙ্গভবনে বৈঠকে বসল রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ ইউসিসি কমিটি।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র দফতর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করা হবে। অর্থাৎ, এত দিন যে বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল, এবার তা ঢুকছে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়ে।
খসড়া তৈরির আগে দেশের অন্য কয়েকটি রাজ্যের অভিজ্ঞতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমে ইউসিসি নিয়ে যে উদ্যোগ হয়েছে, সেই মডেলগুলি পর্যালোচনা করছে কমিটি। প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।
তবে ইউসিসি মানে ঠিক কী বদল? প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি বণ্টনের মতো দেওয়ানি বিষয়ে ধর্মভেদে আলাদা নিয়মের পরিবর্তে অভিন্ন বিধি চালুর কথা বলা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত কাঠামোয় আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়কে এর আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। অন্তত ন’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির। ফলে শুধু আইনি খসড়া তৈরি নয়, সামাজিক বাস্তবতাকেও প্রস্তাবিত আইনের মধ্যে কতটা জায়গা দেওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, রেসিডেন্ট কমিশনার দ্যুষ্মন্ত নারিয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং-সহ প্রশাসন, আইন, শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি। প্রথম বৈঠকেই পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলায় ইউসিসি চালু করা। সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই অবস্থান স্পষ্ট করেন। এবার সেই রাজনৈতিক ঘোষণাই ঢুকল খসড়া তৈরির টেবিলে।
তবে সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বিধানসভা। কারণ ইউসিসি শুধু একটি আইন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত আইন, ধর্মীয় রীতি এবং সামাজিক অধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়। ফলে খসড়া যত এগোবে, রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সামাজিক আলোচনাও ততই বাড়বে।





