নয়াদিল্লী, ৩ সেপ্টেম্বরঃ তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ। তার পরেই দলত্যাগবিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজের দাবি। বিষয়টি গড়িয়েছে লোকসভা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেই টানাপড়েনের মধ্যেই আপাতত আরও ২১ দিন সময় পেলেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন লোকসভা সাংসদ। তাঁদের পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
গত ২৬ অগস্ট সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠিয়েছিল লোকসভা সচিবালয়। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সেই সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পূর্ণাঙ্গ জবাব প্রস্তুত করতে আরও সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন ওই সাংসদরা।
শুক্রবার তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানান মথুরাপুরের এনসিপিআই সাংসদ বাপি হালদার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আপাতত তড়িঘড়ি সাংসদ পদ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নয়। বরং নথি, যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি খতিয়ে দেখার জন্য আরও সময় পেলেন অভিযুক্ত সাংসদেরা।
ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য অবশ্য আরও গভীর। লোকসভার নথিতে এখনও ওই ২০ জন তৃণমূল সাংসদ হিসাবেই রয়েছেন। যদিও তাঁরা প্রকাশ্যে এনসিপিআইয়ের হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বৈঠকেও তাঁদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে বৈঠকেও তাঁদের যোগ দেওয়ার কথা সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে প্রথমে স্পিকারের দ্বারস্থ হন লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টেও। স্পিকারের সিদ্ধান্তে দেরি হচ্ছে এই অভিযোগে শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশনও দায়ের করেছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই ওই ২০ সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে স্পিকারের আরও ২১ দিনের সময় মঞ্জুর করা নতুন করে আইনি জটিলতার মাত্রা বাড়াল।
এখন নজর এক দিকে স্পিকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তে, অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে। তৃণমূলের অভিযোগ, এটি দলত্যাগের প্রশ্ন। আর বিদ্রোহী সাংসদদের পাল্টা বক্তব্য কী সেটিই আপাতত অপেক্ষার।





