বারুইপুর, ৩ সেপ্টেম্বরঃ বারুইপুরের সেই ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে বড় অগ্রগতি। ঘটনার ৫৭ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার বারুইপুর বিশেষ পকসো আদালতে ৭০২ পাতার চার্জশিট পেশ করল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে মোট চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের অবশ্য ইতিমধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পৃথক তদন্তও চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাবালিকার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, কামড় এবং আঁচড়ের দাগের উল্লেখ রয়েছে। ধর্ষণ ও চরম নির্যাতনের প্রমাণও মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অচেতন অবস্থায় নাবালিকাকে বস্তায় ভরে জলে ডুবিয়ে খুন করা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ জুলাই। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুরের বাসিন্দা ১২ বছরের ওই নাবালিকা বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরদিন, ৬ জুলাই ভোরে বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় তার দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তদন্তকারীদের দাবি, শেষ বার প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে নাবালিকাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর প্রভাস-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রভাসের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াই হয়। তাতেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি। ওই ঘটনাটির তদন্ত আলাদা ভাবে চলছে।
নাবালিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলা এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা এখনও জেল হেফাজতে রয়েছেন।
এখন পুলিশের চার্জশিট ঘিরে শুরু হতে চলেছে পরবর্তী আইনি পর্ব। পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনে পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এক নাবালিকার মৃত্যু যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার বিচার এখন আদালতের কাঠগড়ায়। চার্জশিট পেশের পর নজর, সেই বিচার কত দ্রুত শেষ হয়।





