শীতলকুচি, ৩ সেপ্টেম্বরঃ মোটরবাইকের গতি থামতেই বেরিয়ে এল মাদকের বড়সড় চালান। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শীতলকুচির সোনারচালন এলাকায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১২৫ গ্রাম ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ট্যাবলেটের সংখ্যা আনুমানিক ১,২৫০টি।
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর খোলসামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সোনারচালন এলাকায় অভিযান চালায় শীতলকুচি থানার পুলিশ। অভিযোগ, মোটরসাইকেলে করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ধৃতের নাম আনিচুর মিয়া। তাঁর বাড়ি শীতলকুচি থানার ছোট মধুসূদন এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর নিয়ম মেনে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন শীতলকুচির জয়েন্ট বিডিও, যিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন স্বাধীন সাক্ষীরাও। তাঁদের উপস্থিতিতেই তল্লাশি করে ছ’টি জিপলক পাউচ থেকে প্রায় ১২৫ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই তদন্তে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কোথা থেকে এল? মোটরবাইকে করে কোথায় তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল? এর পিছনে কি শুধু ধৃত ব্যক্তি, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও পাচারচক্র?
পুলিশের তদন্ত এখন মূলত সেই উত্তর খোঁজার দিকেই। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের উৎস এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত কি না, পরিবহণের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইয়াবা বা মেথামফেটামিন জাতীয় মাদক পাচার ও বেআইনি দখল গুরুতর অপরাধ। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পাচারের উৎস এবং নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করাই তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি মোটরবাইক থামিয়ে ১,২৫০টি ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু পুলিশের কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই চালানের পিছনে আসল ‘গন্তব্য’ কোথায়, আর সেই পথে আরও কত জন জড়িয়ে রয়েছেন?





