নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। আর সেই কোন্দল ঘিরেই উত্তপ্ত নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। অভিযোগ, বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের সময় তিরের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যা। আহত শান্তি তালুকদার বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান গঠনের কথা ছিল। বিজেপির তরফে দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পঞ্চায়েত সদস্যা যুথিকা বর্মন প্রধানের দায়িত্ব পাবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুথিকা তাঁর অনুগামী সদস্যদের নিয়ে পঞ্চায়েত দফতরে পৌঁছন। অভিযোগ, সেখানেই অন্য এক বিজেপি নেতা তরণীকান্ত বর্মনের নেতৃত্বে থাকা লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময়ই তিরের আঘাতে শান্তি জখম হন বলে অভিযোগ।
আহতের দিদি হেলন তালুকদারের দাবি, ‘‘দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই যুথিকা প্রধান হওয়ার জন্য পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা হয়। সেই হামলার মধ্যেই তিরের আঘাতে শান্তি গুরুতর জখম হন।’’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। দলের ছয় নম্বর মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণ বর্মনের অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে যোগ থাকা কয়েক জন বিজেপির সাংগঠনিক নিয়মকানুন মানছেন না। তাঁর দাবি, তাঁদেরই একাংশের উস্কানি ও মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন তরণীকান্ত বর্মন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যাঁরা ‘কাটমানি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরাই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করছেন।
অর্থাৎ, পঞ্চায়েতের প্রধান কে হবেন সেই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হওয়া টানাপড়েন এখন বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের চেহারা নিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালমারা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের মতো সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ঘিরে দলেরই দুই গোষ্ঠীর এমন প্রকাশ্য সংঘাত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির স্থানীয় সংগঠনের ভিতরের সমন্বয় নিয়েও। এখন দেখার, এই ঘটনার পর দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে।





