নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: মিষ্টির স্বাদে যেন না মেশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ‘তিক্ততা’। শহরের খাবারের দোকানগুলিতে পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে ফের কড়া নজরদারি শুরু করল কোচবিহার জেলা প্রশাসন। নামী মিষ্টির দোকান থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ বুধবার একাধিক প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে রান্নাঘর, খাবার তৈরির পরিবেশ, লাইসেন্স এবং গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম খতিয়ে দেখলেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
কয়েক দিন আগেই শহরের একাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করে রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন জেলাশাসক। তার পরেই ফের এই অভিযান। জেলাশাসকের নেতৃত্বে কয়েকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, আগের তুলনায় কোথাও কোথাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। তবে তাতেই ছাড় নয়। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সদর মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে মিষ্টির দোকানগুলিতেও চলে বিশেষ পরিদর্শন। সেখানেই উঠে আসে বেশ কিছু প্রশ্ন। কয়েকটি দোকানে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নজরে আসে। একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফুড সেফটি লাইসেন্স না থাকার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে পড়েছে।
শুধু খাবারের মান নয়, নজরে এসেছে রান্নার জ্বালানিও। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কমার্শিয়াল গ্যাসের পরিবর্তে ডোমেস্টিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে একাধিক দোকানে। নিয়ম না মেনে গ্যাস ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন, ২০০৬-সহ সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী খাবারের গুণমান, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। সেই নিয়ম ভাঙলে নোটিস, জরিমানা থেকে শুরু করে আইনানুগ পদক্ষেপের পথ খোলা রয়েছে প্রশাসনের সামনে।
অভিযান শেষে একাধিক মিষ্টির দোকান এবং কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে নিয়ম লঙ্ঘন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে প্রশাসন। ওই অভিযানে ছিলেন জেলাশাসক, সদর মহকুমাশাসক, কোতোয়ালি থানার আইসি, ডিএসপি ট্রাফিক, ফুড সেফটি অফিসার-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত শুধু মিষ্টির দোকানের নয়। উৎসব, পর্যটন কিংবা নিত্যদিনের খাওয়াদাওয়া-খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের স্বাস্থ্য। তাই প্রশাসনের এই নজরদারি কতটা নিয়মিত এবং কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।





