কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ অভয়ার মামলায় জামিন পেলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তবে আপাতত জেল থেকে বেরতে পারছেন না তিনি। তোলাবাজি ও লটারি সংক্রান্ত পৃথক মামলায় আগে থেকেই তাঁর জেল হেফাজতের নির্দেশ রয়েছে। ফলে অভয়ার মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলার কারণে হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। একই দিনে জামিন পেয়েছেন অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘কাকু’ নামে পরিচিত।
১৩ অগস্ট বালাসোর থেকে গ্রেফতারের পর অভয়ার মামলায় ১৫ দিন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন নির্মল। পরবর্তী দু’দিনের হেফাজত শেষ হওয়ার পর সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ আরও হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে অভয়ার মামলায় নির্মলকে জামিন দেয়। অস্ত্র আইনের একটি মামলাতেও তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনও আদালত খারিজ করেছে।
সঞ্জীবের ক্ষেত্রেও হেফাজতের আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত তা খারিজ করে তাঁকে জামিন দিয়েছে। শুনানিতে সঞ্জীবের আইনজীবী অভয়ার বাবার একটি পুরনো ভিডিয়োর বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন সঞ্জীব অভয়ার বাবার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন। পাল্টা অভয়ার পরিবারের আইনজীবী আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই ধরনের ভিডিয়ো ক্লিপ গ্রহণযোগ্য নয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সঞ্জীবকে জামিন দেয়।
আর জি কর-কাণ্ডের পর অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর ভূমিকা নিয়ে পরবর্তী সময়ে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, দ্রুত সৎকারের মাধ্যমে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সম্মতি ও প্রয়োজনীয় সই ছাড়া সৎকার হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। অভয়ার মামলায় আদালতের জামিনে আপাতত স্বস্তি মিললেও পৃথক মামলার কারণে নির্মলের হেফাজত অব্যাহত থাকছে।





