কলকাতা, ১৮ আগস্টঃ এক দিকে নাবালিকা গর্ভধারণ, অন্য দিকে একের পর এক সন্তানের জন্ম। প্রসূতি মৃত্যুর পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই দুই প্রবণতাকেই বড় কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। আর তার পরেই উঠে এসেছে আরও কড়া ভাবনা এক দম্পতির সর্বোচ্চ দুই সন্তান। এই নীতি কার্যকর করতে ভবিষ্যতে আইন আনার সম্ভাবনা নিয়েও স্বাস্থ্যভবনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় এখনও এমন ঘটনা ঘটছে যেখানে বহু সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যু হচ্ছে। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও ১৩ কিংবা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাগুলির বড় অংশই সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘটছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
অন্য উদ্বেগ নাবালিকা গর্ভধারণ। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রীর বক্তব্য, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষে রয়েছে। মুর্শিদাবাদের সুতি-১, সুতি-২ এবং সামশেরগঞ্জের মতো এলাকায় পরিস্থিতি বিশেষ ভাবে উদ্বেগজনক বলে স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এসেছে।
তাই বার্তা স্পষ্ট ১৮ বছরের আগে বিয়ে বা গর্ভধারণ নয়, আর দ্বিতীয় সন্তানের পর পরিবার পরিকল্পনায় জোর। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে সাময়িক কিংবা স্থায়ী গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার সুযোগ মিলবে।
তবে ‘দুই সন্তান’-এর ভাবনা বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এটি শুধুই সচেতনতার বার্তা থাকবে, নাকি আইনি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। কারণ পরিবার পরিকল্পনার মতো বিষয়ে আইন করতে গেলে স্বাস্থ্য, অধিকার এবং সামাজিক বাস্তবতার একাধিক দিকও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও কয়েকটি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সরকার। কলকাতায় নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি অ্যালোপ্যাথি হাসপাতালের পরিকাঠামোর মধ্যেই আয়ুর্বেদিক আউটডোর চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শয্যা সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও সামনে এসেছে। সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে সরকারি খরচে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সম্প্রতি এসএসকেএম থেকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরের ‘মকড্রিল’ হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রসূতি মৃত্যু কমানোর লড়াইয়ে নজর এখন শুধু হাসপাতালের দরজায় নয়। বিয়ের বয়স থেকে পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য দফতর পৌঁছতে চাইছে জীবনের অনেকটা আগেই। ‘দুই সন্তান’-এর ভাবনা সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই সবচেয়ে বিতর্কিত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অংশ।





