কলকাতা, ৬ আগস্টঃ কয়েক সপ্তাহ আগেও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির মুখে পড়েছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধানসভার ভিতর থেকেই তাঁকে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবহেই এবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মুর্শিদাবাদের উন্নয়ন এবং জেলার দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি।
বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজেই সামাজিক মাধ্যমে সেই বৈঠকের কথা জানান হুমায়ুন কবীর। তাঁর পোস্ট করা ছবিতে দু’জনকে আলোচনায় বসতে দেখা যায়। বিধায়কের দাবি, অনেক দিন আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। সেই অনুরোধেই নবান্নে বৈঠকের সুযোগ হয়।
হুমায়ুন জানান, বৈঠকে তিনি মুর্শিদাবাদের উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, নওদা বিধানসভার কৃষকদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিমঘর নির্মাণের আবেদন জানান। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, রেজিনগর বিধানসভার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে রাখেন। এতে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে তাঁর দাবি।
বিধায়কের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মন দিয়ে তাঁর প্রস্তাবগুলি শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে হুমায়ুন লেখেন, মুর্শিদাবাদের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে তিনি ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ করে যাবেন।
এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘটনার পর হুমায়ুনের বক্তব্যেও কিছুটা সংযম লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
এবার নবান্নে সেই দুই নেতার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হলেও, আপাতত উভয় পক্ষই উন্নয়নমূলক আলোচনা এবং জেলার স্বার্থকেই এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য বলে তুলে ধরেছে।





