কলকাতা, ৬ আগস্টঃ ডোমেস্টিক কার্গোর আড়ালে মূল্যবান গয়না পাচারের চেষ্টায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। কলকাতা বিমানবন্দর চত্বর থেকে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা, হিরে, চুনী, পান্না এবং রূপো উদ্ধার করেছে বিধাননগর পুলিশ। এই ঘটনায় রাজস্থানের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় ডোমেস্টিক কার্গোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ধাতু ও রত্ন কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নজরদারি শুরু করে এনএসসিবিআই থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দর চত্বর থেকে স্কুটিতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনা, রূপো এবং মূল্যবান রত্ন।
ধৃতের নাম রাম অবতার শর্মা। তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বিমানবন্দরেই এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি গয়নাগুলি সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর সেগুলি নিয়ে কলকাতার বড়বাজারের দিকে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকা ছাড়ার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪০০ গ্রাম সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।
পাশাপাশি কয়েকশো গ্রাম রূপোও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হিরে, চুনী ও পান্নাও উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট বাজারমূল্য ১ কোটি টাকারও বেশি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
তদন্তকারীদের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পিছনে একটি সুসংগঠিত পাচারচক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হবে আদালতে। এই মূল্যবান গয়না কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ডোমেস্টিক কার্গো ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মূল্যবান ধাতু ও রত্ন পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এত বিপুল পরিমাণ সোনা ও মূল্যবান পাথর একসঙ্গে উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই পাচারচক্রের বিস্তার কতটা এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত।





