সিতাই, ৪ আগস্টঃ সীমান্ত পেরিয়ে মাদক পাচারের নতুন রুট কি টোটো? গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে একটি টোটো থেকে উদ্ধার হল ৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সিতাই থানার পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে টোটোটি। পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর মেলে যে শীতলকুচির হরিণকুচি দিক থেকে একটি টোটোয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিতাই থানার পুলিশ খামার সিতাই সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করে।
অভিযানের সময় সন্দেহজনক টোটোটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে গাড়ির ভিতরে থাকা তিনটি বস্তা থেকে মোট ৫০০ বোতল নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া সিরাপের বাজারমূল্য এবং এগুলি কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাস্থল থেকেই টোটোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় খামার সিতাই এলাকার বাসিন্দা সাকিব মিয়াকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে আরও চারজনের নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। ধৃত সাকিব মিয়াসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও নিষিদ্ধ ওষুধ পাচার রুখতে সম্প্রতি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া কাশির সিরাপ একটি বড় পাচারচক্রের অংশ হতে পারে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে, যাতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া যায়।
পুলিশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক অভিযান চলবে।





