বীরভূম, ৩১ জুলাইঃ বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে টুলু মণ্ডলের নামে চিহ্নিত সম্পত্তির বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, এত বিপুল সম্পত্তি একদিনে গড়ে ওঠেনি এবং এর নেপথ্যে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক মদত ছিল। এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তদন্তকারীরা উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভও।
সম্পত্তির তালিকা আরও দীর্ঘ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডির মতো বিলাসবহুল গাড়ি-সহ মোট ২৪২টি যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চিহ্নিত হয়েছে ২১টি স্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রল পাম্প, একটি পার্কিং এলাকা এবং দুটি স্টোন ক্রাশার ইউনিট। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এত বড় আর্থিক সাম্রাজ্য কোনওভাবেই স্বল্প সময়ে তৈরি হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, এই দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এবং তৎকালীন প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, এই ঘটনায় শুধু সামনের সারির ব্যক্তিদের নয়, নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, টুলু মণ্ডল এখনও অধরা। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান, গত ৪ মে-র পরই তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রেখে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তদন্তকারীরা তাঁকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবেন।
টুলু-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। বিপুল সম্পত্তির উৎস, আর্থিক লেনদেনের পথ এবং এই সম্পদের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, এখন সেই সব দিকেই নজর তদন্তকারী সংস্থাগুলির।





