কলকাতা, ২৯ জুলাইঃ দলভাঙনের পর এ বার কি আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল? অন্তত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে সেই জল্পনাই জোরালো হয়েছে। এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। একই সঙ্গে রহস্য বাড়িয়ে বললেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আশা করি একটা কিছু দেখতে পাবেন।”
মঙ্গলবার এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেন এনসিপিআই-ঘনিষ্ঠ ২০ জন সাংসদ। যদিও এখনও তাঁরা সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়েই রয়েছেন। কারণ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও নতুন দলের স্বীকৃতি বা দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। এই পরিস্থিতিতেই আইনি পথের কথা সামনে আনলেন কল্যাণ।
এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “এরা সবাই গদ্দার। পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে এত গদ্দার জন্মায়নি। মিরজাফর একজন বেইমান ছিল, এখানে ২০ জন গদ্দার। যেদিন থেকে ওরা এনসিপিআই-তে গিয়েছে, সেদিন থেকেই দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
তাঁর দাবি, স্পিকার এখনও সিদ্ধান্ত না নিলেও রাজনৈতিক দল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কল্যাণ জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তাও পাঠিয়েছেন তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্মতি দিলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হতে পারে।
২১ জুলাইয়ের পরও বিক্ষুব্ধ নেতা-সাংসদদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি কল্যাণ। বরং বলেন, “আগামী সপ্তাহের পরই আশা করি একটা কিছু দেখতে পাবেন। একটু অপেক্ষা করুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন নজর, তৃণমূল সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে যায় কি না এবং দলের পরবর্তী কৌশল কী হয়।





