দিল্লি, ২৫ জুলাইঃ NEET-UG পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার জন্ম দিল। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের পর প্রকাশিত খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং চলমান আন্দোলনের অপব্যবহার যাতে কোনও অশুভ শক্তি করতে না পারে, সেই বিবেচনাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের অন্যতম দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। ফলে এই ঘটনাকে নিজেদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে আন্দোলনের নেতৃত্ব।
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী, তরুণ প্রজন্ম এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে শামিল হওয়া নাগরিকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগই শেষ লক্ষ্য হতে পারে না; এখন প্রয়োজন পরীক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কার।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিজেপি-ও একই সুরে জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনের একটি ধাপ মাত্র। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো সম্ভব সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তারই উদাহরণ। তাঁর মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থায়ী সংস্কার নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ২০২১ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ধর্মেন্দ্র প্রধান ২০২৪ সালের পরও সেই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। কিন্তু NEET বিতর্ক এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চাপের আবহে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।
এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এই দাবিগুলিই আন্দোলনের পরবর্তী পর্বে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে।





