নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভা থেকে বিজেপিকে বাংলার মাটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভার ভিতর থেকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “আড়াই হাজার লোক নিয়ে বড় বড় কথা। ক্ষমতা থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান।”
মঙ্গলবার একুশে জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত শহিদ স্মরণ কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক লড়াই থেকে তৃণমূল কোনওভাবেই পিছিয়ে যাবে না। তাঁর কথায়, “ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব। দেখি ওরা কী করতে পারে।” সেই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
বুধবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেকের মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। বরং সরাসরি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আড়াই হাজার লোক নিয়ে আবার বড় বড় কথা। সত্যিই যদি ক্ষমতা থাকে, তা হলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের লক্ষ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি ডায়মন্ড হারবার। লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন অভিষেক। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমীকরণও বদলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে জেলার একাধিক আসনে তৃণমূলের শক্তি কমেছে এবং বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
এ বারের একুশে জুলাই কর্মসূচিকে ঘিরেও রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের অনুমতি ছিল না। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী বলে দাবি করে। সেই আবহেই বিজেপিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ জানান অভিষেক।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা মন্তব্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একুশের মঞ্চের বার্তা এবং বিধানসভার জবাব দুই পক্ষের বাকযুদ্ধেই স্পষ্ট, রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।





