দিনহাটা, ১৩ জুলাইঃ মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবা ছেড়ে প্রশাসনিক কাজ নয়। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি করানোর অতিরিক্ত দায়িত্বের প্রতিবাদে সোমবার বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিক্ষোভে সামিল হলেন আশা কর্মীরা। বিক্ষোভের জেরে এ দিনের নির্ধারিত ই-কেওয়াইসি-র প্রশিক্ষণও স্থগিত রাখতে বাধ্য হল স্বাস্থ্য দফতর। লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে প্রশাসনিক চাপ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের দিনহাটা-২ ব্লক কমিটির ডাকে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জড়ো হন আশা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাকরণ, পরিবারকল্যাণ-সহ মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একের পর এক প্রশাসনিক কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি-এর মতো মোবাইল ও কম্পিউটারনির্ভর কাজ তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলেই দাবি সংগঠনের।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের অভাব থাকা সত্ত্বেও ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল বা অসংগত তথ্যভিত্তিক ডেটা সরবরাহ করতেও বাধ্য করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এর ফলে মূল স্বাস্থ্য পরিষেবাই ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
এ দিন নির্ধারিত ই-কেওয়াইসি প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন আশা কর্মীরা। পরে ব্লক স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন তাঁরা। বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কেশব চন্দ্র রায় জানান, আশা কর্মীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই কারণে সোমবারের প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তাঁদের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
প্রশাসনিক দায়িত্বের বাড়তি চাপ নিয়ে আশা কর্মীদের ক্ষোভ নতুন নয়। তবে এ দিন প্রশিক্ষণ বয়কট করে সরাসরি প্রতিবাদে নামায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।





