কোচবিহার, ১৩ জুলাইঃ বিদ্যুতের বিল কমবে, বাড়বে সবুজ শক্তির ব্যবহার। সেই লক্ষ্যেই কোচবিহারে শুরু হল ‘পিএম সূর্যঘর: মুফত বিজলি যোজনা’-র জনসচেতনতা অভিযান। ছাদের অব্যবহৃত জায়গাকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে পরিণত করতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করল জেলা প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।
সোমবার কোচবিহারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা শাসক জিতিন যাদব, জেলা পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং, সদর মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দী এবং ডাব্লুবিএসইডিসিএল-এর আধিকারিকেরা যৌথভাবে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ দফতরের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরাও। আগামী কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গার্হস্থ্য বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষকে রুফটপ সোলার বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো।
এদিন জেলা শাসক জিতিন যাদব জানান, কেন্দ্র সরকারের ‘পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা’-য় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ভর্তুকির সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে এককালীন আর্থিক চাপ ছাড়াই গ্রাহকেরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারেন।
প্রশাসনের দাবি, রুফটপ সোলার ব্যবহারে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নির্গমন কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, এটিকে ভবিষ্যতের টেকসই শক্তি ব্যবস্থার দিকেও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
জেলা জুড়ে শুরু হওয়া এই জনসচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক গার্হস্থ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক সৌরবিদ্যুতের দিকে এগিয়ে আসবেন বলেই আশাবাদী প্রশাসন।





