কলকাতা, ১২ জুলাইঃ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার প্রশাসনিক স্তরেও স্পষ্ট। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মিললেও শেষ পর্যন্ত গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সমাবেশের ছাড়পত্র পেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। অনুমতি মিলতেই প্রস্তুতি শুরু করেছে ওই শিবির। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার সভাস্থল পরিদর্শনে যাবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে কালীঘাট শিবিরের অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত তৃণমূল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আসল’ তৃণমূল। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির জন্য দুই পক্ষই ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ধর্মতলায় সভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় পুলিশ।
এরপর বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রতপন্থী প্রতিনিধিরা। সেখানে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করার আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনেই শেষ পর্যন্ত সায় মিলেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি, মঞ্চ নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন ও জেলা থেকে কর্মী আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার সভাস্থল ঘুরে দেখে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করবেন ঋতব্রতরা।
অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির এখনও তাদের কর্মসূচির স্থান চূড়ান্ত করতে পারেনি। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। সেই মামলার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জায়গা না পেলেও ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি বাতিল হবে না। তাঁর কথায়, প্রয়োজনে “রিকশায় দাঁড়িয়েও” শহিদ দিবস পালন করবেন।
২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, আবেগেরও দিন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যুর স্মৃতিকে সামনে রেখেই প্রতিবছর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করে দল। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কর্মসূচি তৃণমূলের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক জমায়েতে পরিণত হয়েছে।
তবে এ বছর ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। একই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার দাবি করে দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচি, প্রশাসনিক অনুমতি এবং আইনি লড়াই সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ এবার শুধু স্মরণসভা নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শক্তি-পরীক্ষারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে।





