কলকাতা, ১২ জুলাইঃ ক্ষমতায় আসার পর দল চালানোর রাজনীতি আর সরকার চালানোর দায়িত্ব— দুইয়ের মধ্যে সীমারেখা কোথায়? বাংলায় প্রথমবার সরকার গঠনের পর সেই পাঠই এবার দিতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১৯ জুলাই কলকাতায় বিজেপির বিধায়ক, সাংসদ ও রাজ্য নেতৃত্বকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে প্রশাসন ও সংগঠনের ভূমিকা স্পষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের আচরণবিধি নিয়েও বার্তা দেবেন তিনি। বিজেপি সূত্রের খবর, সদ্য ক্ষমতায় আসা রাজ্যে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাই হবে ওই বৈঠকের মূল বিষয়।
জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন শাহ। ১৮ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাসের সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর ১৯ জুলাইয়ের দলীয় বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের সমস্ত বিজেপি বিধায়ক, সাংসদ এবং শীর্ষ নেতৃত্ব।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টির মধ্যে ২০৮টি আসন জিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ফলে বিরোধী দলের রাজনীতি থেকে প্রশাসনের দায়িত্বে আসার পর নতুন বাস্তবতায় দলের করণীয় কী হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিজেপির অন্দরের একাংশের মতে, ক্ষমতায় এলে দলীয় সংগঠন ও সরকারি প্রশাসনের সীমারেখা স্পষ্ট না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই সাংসদ-বিধায়কদের জনসংযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দিতে পারেন শাহ।
বৈঠকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রের খবর। ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, নির্বিচারে কাউকে দলে নেওয়া হবে না। এই আবহেই তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের বিজেপিতে যোগদান এবং যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করা নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে।
দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য একে ‘ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত’ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কেন ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অন্য দল থেকে নেতা নেওয়ার ক্ষেত্রে কী নীতি অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়েও বৈঠকে ব্যাখ্যা দিতে পারেন শাহ।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, আগামী এক বছরই হবে বাংলায় নতুন সরকারের ‘ভিত’ শক্ত করার সময়। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই ১৯ জুলাইয়ের বৈঠককে কেবল সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বাংলায় বিজেপির শাসনপর্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক ‘পাঠশালা’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।





