পূর্ব মেদিনীপুর, ১২ জুলাইঃ বছরের পর বছর মেয়ের কান্না শুনেছেন। নেশার টাকার জন্য মারধর, গালিগালাজ, শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগও নাকি নতুন ছিল না। কিন্তু শনিবার রাতের ঘটনার পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি শ্বশুর। অভিযোগ, রবিবার সকালে ফের মেয়ের উপর হামলা চালাতে দেখে উঠোন থেকে কাটারি তুলে জামাইয়ের গলায় কোপ বসান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় যুবকের। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানার রাধিকাপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত শ্বশুর শেখ জুলফিকার। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শেখ মতিবুল। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কোনও কাজ করতেন না। নেশার টাকার জন্য স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সংসারের সমস্ত দায়ভার ছিল তাঁর স্ত্রীর উপর। স্ত্রী দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালালেও সেই উপার্জনের টাকাও জোর করে কেড়ে নেওয়া হত বলে অভিযোগ।
মৃতের শাশুড়ির দাবি, শনিবার রাতে নেশার টাকা না পেয়ে মতিবুল তাঁর স্ত্রীর মুখে বালি চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। রাতভর আতঙ্কে কাটানোর পর রবিবার সকালেও ফের স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন তিনি। পরিবারের দাবি, সেই সময়ই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শেখ জুলফিকার। উঠোনে রাখা একটি কাটারি নিয়ে এসে জামাইয়ের গলায় একাধিক কোপ মারেন। গুরুতর জখম অবস্থাতেই মতিবুলের মৃত্যু হয়।
শাশুড়ির কথায়, “জামাই কোনও কাজ করত না। রোজ নেশা করার জন্য মেয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। টাকা না দিলে মারধর করত। আমাদের সামান্য উপার্জনও কেড়ে নিত। দুই নাতি-নাতনির ভবিষ্যতের কথাও কোনও দিন ভাবেনি। প্রতিদিনের অশান্তিতে ঘরে শান্তি বলে কিছু ছিল না।”
খবর পেয়ে তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শেখ জুলফিকার ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পরিবারে অশান্তি এবং গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা নতুন ছিল না। তবে সেই দীর্ঘদিনের উত্তেজনার এমন রক্তাক্ত পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।





