বারুইপুর, ৯ জুলাইঃ বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া অশান্তির ঘটনায় পুলিশের অভিযান আরও জোরদার হল। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। এর আগে বুধবার একই অভিযোগে ১৮ জনকে ধরা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, প্রথম দফায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও একাধিক অভিযুক্তের নাম সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, অশান্তির ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
গত রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। প্রতিবাদের নামে একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগও সামনে আসে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দেন। তাঁর দাবি, এলাকায় মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি অশান্তি ছড়িয়েছে এবং নির্বাচনে পরাজিত একটি গোষ্ঠীর উসকানিতেই এই তাণ্ডব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় পুলিশের ধারাবাহিক ধরপাকড় অভিযান।
এদিকে, পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর তদন্তেও বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশিকা মেনে স্বাস্থ্যদপ্তর তিন সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। ওই বোর্ডে রাজ্যের তিনটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।
ময়নাতদন্তের আগে প্রভাস মণ্ডলের দেহের ডিজিটাল এক্স-রে করা হয়েছে। গুলি শরীরের ঠিক কোন অংশে লেগেছে এবং তার গতিপথ নির্ধারণ করতেই এই পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে দেহ কাঁটাপুকুর মর্গে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানেই বিশেষজ্ঞ বোর্ডের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। বারুইপুরের অশান্তি এবং এনকাউন্টার দুই ঘটনার তদন্তই এখন প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে।





