বারুইপুর, ৮ জুলাই: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ দাবি করেছে, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস পিস্তল কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশ সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে যায়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের বয়ান অনুযায়ী ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় আচমকা সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস পিস্তল কেড়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালায় প্রভাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারুইপুর থানার গুণ্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন প্রভাস। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তদন্তে যুক্ত দুই অফিসারের মধ্যে অর্ঘ্য মণ্ডল বর্তমানে বারুইপুর থানার গুণ্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি সোনারপুর, কুলতলি ও জয়নগর থানায় কর্মরত ছিলেন এবং বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। অন্যদিকে রনি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার গুণ্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে সাব-ইনস্পেক্টর পদে উন্নীত হন। নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর ও বকুলতলা-সহ একাধিক থানায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বারুইপুরের ঘটনায় গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণের সময় এই গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের দাবি। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত বা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের অনুসন্ধান হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত পুলিশের বয়ানের বাইরে অন্য কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।





