কলকাতা, ৫ জুলাইঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের মধ্যে প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয় বা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন বলে দাবি করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বহু নির্বাচিত প্রধান নিয়মিত অফিসে আসছেন না বা দায়িত্ব পালন করছেন না। এর জেরে সরকারি প্রকল্পের কাজ, পরিষেবা এবং আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুপস্থিত প্রধানদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জেলায় বহু পঞ্চায়েত প্রধান দায়িত্বে থাকলেও কার্যত অফিসে অনুপস্থিত। কোথাও তাঁরা গা-ঢাকা দিয়েছেন, কোথাও আবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় শংসাপত্র, সরকারি পরিষেবা কিংবা প্রকল্প-সংক্রান্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে আবাসন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও বাধার মুখে পড়ছে বলে দাবি তাঁর।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয় বা পালিয়ে গিয়েছেন। অফিসে আসছেন না। সরকারি প্রকল্পে সমস্যা হচ্ছে। মানুষ বিভিন্ন কাজে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না, পেমেন্ট আটকে যাচ্ছে। নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে, তার অর্থ ছাড় করতে হবে, টেন্ডার দিতে হবে। এইভাবে প্রশাসন চলতে পারে না।’’
তিনি আরও বলেন, যাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব পালন করা সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কেউ যদি দপ্তরে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন, তা হলেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমি আবেদন করছি, যাঁরা ভোটে জিতে এসেছেন, তাঁরা কাজে ফিরুন। কেউ কটূক্তি করতে পারে, কিন্তু ভয় পাওয়ার কারণ নেই। রাজনীতি করতে এসেছেন, দায়িত্বও পালন করতে হবে।’’
এখানেই থেমে থাকেননি পঞ্চায়েতমন্ত্রী। দায়িত্বে ফিরতে অনীহা দেখালে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রয়োজনে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের অফিসে আনা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ার আগেই দায়িত্বে ফেরার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, ‘‘ভালোয় ভালোয় চলে আসুন। না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।’’
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গ্রামীণ প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে নিষ্ক্রিয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কাজে ফিরিয়ে এনে পঞ্চায়েত স্তরে পরিষেবা সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবির এখনও পর্যন্ত মন্ত্রীর এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।





