শিলিগুড়ি, ৫ জুলাইঃ শিলিগুড়ি প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের আর্থিক লেনদেনে কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি চেকে সই জাল, প্রাপকের নাম পরিবর্তন এবং অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আলপনা সাহা ও প্রতিমা সরকার। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়মের হদিস মিলেছে। তবে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে সন্দেহভাজন পেনশন ক্লার্ক রঞ্জন দত্ত এখনও পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ মে শিলিগুড়ি প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন চেয়ারম্যান দিলীপকুমার রায় শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কন্ট্রোলার অফ ফিন্যান্স এবং ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)-র জমা দেওয়া রিপোর্টে সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও পার্সোনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের হিসাব মিলিয়ে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল একটি প্রকাশনা সংস্থার বকেয়া ১৪ হাজার ২৪০ টাকা মেটাতে একটি সরকারি চেক ইস্যু করা হয়েছিল। অভিযোগ, পরে সেই চেকে কারচুপি করে টাকার অঙ্ক পরিবর্তন করা হয়। ব্যাঙ্ক থেকে মোট ৯ লক্ষ ১৪ হাজার ২৪০ টাকা তোলা হয়। প্রকাশনা সংস্থাকে নির্ধারিত ১৪ হাজার ২৪০ টাকা দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি বড় অংশ আলপনা সাহা ও প্রতিমা সরকারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, একক কোনও লেনদেন নয়, প্রায় এক বছরের মধ্যে অন্তত ১২টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ধৃত দুই মহিলার অ্যাকাউন্টেই মোট ৭১ লক্ষ ১১ হাজার ৭০০ টাকা জমা পড়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শিক্ষা সংসদের চেকবই সংরক্ষণ, চেক প্রস্তুত এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন পেনশন ক্লার্ক রঞ্জন দত্ত। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। আলপনা সাহাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিমা সরকারের নাম উঠে আসে। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃত দুই মহিলা রঞ্জন দত্তের ঘনিষ্ঠ পরিচিত।
তদন্তকারীরা এখন ব্যাঙ্কের লেনদেন, চেকের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখছেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, সরকারি অর্থ অন্য কোথাও সরানো হয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে অনিয়ম ধরা পড়েনি সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





