খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৫ জুলাইঃ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পর এবার নিজেই ভোটের লড়াইয়ে নামছেন প্রশান্ত কিশোর। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। রবিবার দলের রাজ্য সভাপতি মনোজ ভারতী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতার ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত থাকলেও, কোনও নির্বাচনে এটাই হবে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ।
বাঁকিপুর আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে বিজেপির বিধায়ক নীতীন নবীন রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায়। তাঁর বিধায়ক পদ শূন্য হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে এবং ৩ আগস্ট গণনা। ওই দিনই প্রথমবার ভোটপ্রার্থী হিসেবে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই কেন্দ্র থেকেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা। কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতেই তিনি প্রার্থী হতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি তাঁর প্রার্থিতা বিজেপিকে পরাজিত করার সম্ভাবনা তৈরি করে, তবে তিনি ভোটে লড়বেন। সেই অবস্থানই রবিবার বাস্তব রূপ পেল।
প্রার্থী ঘোষণার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, বাঁকিপুরের মানুষ বিহারের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে। তাই তাঁরা যোগ্য প্রার্থীকেই সমর্থন করবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিধানসভায় যদি তাঁর দল থেকে একমাত্র তিনিই নির্বাচিত হন, তা হলেও তিনি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।
গত বছরের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নেয় জন সুরাজ পার্টি। যদিও দলটি কোনও আসনে জয় পায়নি, তবে রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ ভোট অর্জন করেছিল। সেই নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর নিজে প্রার্থী হননি। খড়্গপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটে দাঁড়াননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলের প্রতিষ্ঠাতার অনুপস্থিতি সংগঠনের প্রচারে প্রভাব ফেলেছিল।
এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন প্রশান্ত কিশোর। বিহারের রাজনীতিতে জন সুরাজকে বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দখলে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাঁর এই লড়াই শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিষেকই নয়, জন সুরাজের সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটভিত্তিরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে চলেছে।





