কলকাতা, ৪ জুলাইঃ তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মান জানাল রাজ্য সরকার। শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্ধারকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। একইসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আগামী এক বছরের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত উদ্ধার বাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগেও কলকাতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থা এভাবে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করেছে, এমনটা আগে দেখা যায়নি। আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং দক্ষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়ে তোলা হবে।’’
অনুষ্ঠানে সিভিল ডিফেন্সের ১৬০ জন, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১২০ জন, রেলের ৯০ জন কর্মী, ট্রাফিক পুলিশের ৭৫ জন সদস্য-সহ উদ্ধার অভিযানে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সম্মানিত করা হয়। উপস্থিত পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারাতলার ওই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তৎপরতায়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রাথমিক উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সবচেয়ে আগে উদ্ধারকাজ শুরু করেছিলেন এলাকার কয়েকজন সাধারণ যুবক। তাঁদের সাহস ও মানবিক উদ্যোগই প্রথম অনেকের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে। সুযোগ হলে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ধন্যবাদ জানাব।’’
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আরও জানান, ভবিষ্যতে বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সরঞ্জামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীদের এই সরকারি স্বীকৃতি যেমন তাঁদের ভূমিকার মর্যাদা দিল, তেমনই ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখাও স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার।





