খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ জুলাইঃ তৃতীয় মোদি সরকারের দু’বছর পূর্তি ঘিরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অতীতের রীতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রায় দু’বছর পরই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি, নতুন বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনের নেতৃত্বে এখনও পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক টিম গঠিত হয়নি। ফলে সরকার ও সংগঠন দুই ক্ষেত্রেই একযোগে রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, এবার মন্ত্রিসভা ও সংগঠনের পুনর্গঠন পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে সংগঠনের দায়িত্বে পাঠানো এবং সংগঠনের কিছু নেতাকে মন্ত্রী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জল্পনা। অন্তত সাত থেকে আট জন নতুন সাংসদের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। একইসঙ্গে কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্বও বদল হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে অন্য একটি সম্ভাবনা দেশে আবার উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ চালু হতে পারে কি না। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। যদিও উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ সংবিধানসম্মত বাধ্যতামূলক নয়; অতীতে জোট রাজনীতি বা ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে এই পদে একাধিক প্রবীণ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী।
জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দু’টি নাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতা নীতীশ কুমার। বিজেপির অন্দরে অমিত শাহের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং এনডিএ-তে নীতীশ কুমারের দলের ভূমিকার প্রেক্ষিতে তাঁদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ফলে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ আদৌ ফিরবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদলের আগে এই জল্পনা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।





