কলকাতা, ২ জুলাইঃ প্রাক্তন বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি। বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁদের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেবরাজের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং অভিযোগের সঙ্গে অদিতির কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অদিতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। সেই কারণেই আগামী পর্যায়ে দেবরাজ ও অদিতিকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল যুব তৃণমূলের কর্মী হিসেবে। পরে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন এবং স্ত্রী অদিতি মুন্সিকেও সক্রিয় রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। ২০২১ সালে অদিতি রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
দেবরাজের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছিল। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বুধবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দেবরাজকে বারাসত আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এদিকে তদন্তকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিভিন্ন দিক এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তদন্তে অদিতি মুন্সির জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য মুখোমুখি জেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।





