নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণার পর এ বার বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমহারে ডিএ ইস্যুতেও আশ্বাস শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বন্ধু হিসেবে কয়েকটা মাস সময় দিন আমাকে। নতুন অর্থমন্ত্রীর সবটা বুঝতে সময় লাগে।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ধাপে ধাপে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র ফারাকও আরও কমানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। মূল দাবি ছিল দু’টি কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা এবং বকেয়া ডিএ পরিশোধ। তৃণমূল সরকারের আমলে সেই আন্দোলন আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিলেও, সব স্তরের কর্মী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সেই আবহেই সোমবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, বর্তমানে প্রাপ্ত ১৮ শতাংশ ডিএ-র উপর আরও ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ দাঁড়াল ৩৮ শতাংশে।
বাজেট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে সরকারি কর্মীদের শুধু বঞ্চনাই সইতে হয়েছে। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। নতুন সরকার এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বাড়িয়ে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। তিনি আরও জানান, যাঁরা এখনও বকেয়া পাননি, তাঁদের বকেয়া ধীরে ধীরে মিটিয়ে দেওয়া হবে, ফান্ড এলেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে। সেই কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আরও ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। পাশাপাশি বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা দুই পর্বেই সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “আমি পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।” ফলে বাজেট-পরবর্তী এই মন্তব্যে সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনই বকেয়া ডিএ মেটানো ও সমহারে মহার্ঘভাতা কার্যকর হওয়ার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।





