শীতলখুচি, ১৪ জুনঃ কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়ির সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল শীতলখুচি ব্লকের খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৪৮(এ) চেঙ্গেরকুটি-খলিসামারিতে। রবিবার এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা একত্রিত হয়ে পঞ্চায়েত সদস্যা রানু বিবি-র বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তীর পঞ্চায়েত সদস্যার দেওর গোলাপ হোসেন-এর দিকে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সকলেই রানু বিবিকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যা হিসেবে জানলেও বাস্তবে পঞ্চায়েত সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজকর্ম পরিচালনা করেন গোলাপ হোসেন। সেই কারণেই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধেই উঠেছে।
এদিন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপভোক্তাদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন সেই টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
যদিও অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্যা রানু বিবি বা গোলাপ হোসেনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে রানু বিবির শাশুড়ি জানান, কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ থেকে যারা সুবিধা নিয়েছে, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে। গ্রামবাসীরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন এবং বিজেপি তাঁদের পাশে রয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কাটমানি ইস্যুতে শীতলখুচির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার খলিসামারিতেও একই দাবিতে সরব হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।





