মাথাভাঙ্গা, ১৪ জুনঃ শনিবার গভীর রাতে আচমকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ল মাথাভাঙ্গা মহকুমার হাজরাহাট, ছাঁট, পখিহাগা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল দমকা হাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে একাধিক বাড়ির চাল উড়ে যায়, বহু গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের ঝড়ে শতাধিকেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার টিন ও অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে গিয়ে পরিবারগুলি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
রবিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্র সামনে আসতেই দুর্ভোগের প্রকৃত চেহারা স্পষ্ট হয়। বহু পরিবার তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়েছেন। ঝড়ের ফলে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকায় পানীয় জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেরামতির কাজ শুরু করলেও সম্পূর্ণ পরিষেবা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যরা দ্রুত সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকেই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব রবিবার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শনে যান। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবিও তোলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির এই ঘটনায় মাথাভাঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে দুর্গত পরিবারগুলি।





