কলকাতা, ৩ জুন: বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ‘নতুন তৃণমূল’-এর বিধায়কেরা। পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচনের পর তাঁরা জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের নেত্রী এবং তাঁর পরামর্শ মেনেই তাঁরা বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান।
বুধবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখিরুজ্জামান বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরামর্শে আমরা প্রধান বিরোধী দল হিসাবে কাজ করতে চাই।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিদ্রোহী শিবির আলাদা সাংগঠনিক অবস্থান নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে স্বীকার করছে।
এদিন পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নাম ঘোষণার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার আবেদন জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত এই বিধানসভার কোনও সম্পর্ক নেই।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী শিবির একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইছে, অন্যদিকে দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়েছে। সেখানে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উপদলনেতা ও মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, তাঁর রায়ই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও স্বীকৃতির ভবিষ্যৎ।





