কলকাতা, ৩১ মে: সোনারপুরে হেনস্তার ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের ঘটনার পর কলকাতায় ফেরার পথে তিনি প্রথমে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পরপর দুটি হাসপাতালেই প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরে কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নেই এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এরপর রাতেই কালীঘাট রোডের বাড়িতে ফিরে যান অভিষেক। সূত্রের খবর, বাড়িতেই বিশেষ চিকিৎসা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আইসিইউ-প্রশিক্ষিত নার্সের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসকদের একটি দল নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন। রক্তচাপ ওঠানামা করায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অক্সিজেন এবং স্যালাইনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুরের ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবেও চাপে রয়েছেন। রাতে বমি বমি ভাবের অভিযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর চোখে আগে থেকেই কিছু সমস্যা রয়েছে। হামলার সময় তাঁর চশমা ভেঙে যাওয়ায় চোখে নতুন কোনও জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে শনিবারই বিধানসভার জাল সই সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে সিআইডি। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস প্রদান করেন এবং সোমবার ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়া বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতিতে তিনি সিআইডির ডাকে সাড়া দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা আপাতত তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার এবং বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে তিনি সিআইডির কাছে আরও সময় চাইবেন, নাকি নির্ধারিত সময়েই নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে ভবানীভবনে হাজির হবেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।





