কোচবিহার, ৩১ মে: বাংলার আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কোচবিহার জেলার ঘুঘুমারি অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দারা ১৭১ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য মন্টু রায় এবং ১৭৩ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য সুবল করের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আবাস প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে একাধিক উপভোক্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ টাকা দিলেও পরে সেই অভিযোগের কোনও সুরাহা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জমতে থাকায় রবিবার সকালে বহু গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন।
এদিন বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত বাসিন্দারা বিভিন্ন স্লোগান তুলে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। শুধু টাকা ফেরত দিলেই হবে না, যারা এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তোলেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা হচ্ছে যে আগামী ৪ জুন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্যদের বাড়ি থেকে কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে টাকা ফেরতের ঘোষণা কেন করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েত সদস্য মন্টু রায় বা সুবল করের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে সামনে এনে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।





