কলকাতা, ২৮ মেঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ফের রাজনৈতিক মহলে বড় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বারাসতের সাংসদ এবার তৃণমূল কংগ্রেস-এর সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-কে লেখা চিঠিতে তিনি দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড এবং ভোটকৌশলী সংস্থা আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। রাজনৈতিক মহলে এই চিঠিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
তিন দিন আগেই বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন কাকলি। এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলকে চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।”
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী কাকলি ঘোষ দস্তিদার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবেও সেই অভিঘাত অনুভব করেছেন।
চিঠিতে নাম না করলেও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিশানা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কাকলি লেখেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।”
শুধু তাই নয়, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা আই-প্যাকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি। কাকলির অভিযোগ, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না।”
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি এখন থেকে দলের সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলিকে। সেই দায়িত্ব ফের দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, “চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”
এদিকে মঙ্গলবার তিনি উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী-র প্রশাসনিক বৈঠকে। তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়। যদিও কাকলি বলেন, প্রশাসন সবার জন্য এবং সেখানে দল দেখা উচিত নয়। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।





