শিলিগুড়ি, ২৪ মেঃ উত্তরবঙ্গ সফরে এসে বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ, বিরোধী রাজনীতির অবস্থান থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র ভূমিকা— একাধিক বিষয় নিয়ে এদিন স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি মানুষের আস্থা অনেকটাই কমেছে। আগামী সময়ে এই দলের অস্তিত্ব ও প্রভাব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।” যদিও তিনি সরাসরি কোনও নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে বিজেপি আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলায় বিরোধী শক্তির পুনর্গঠন চলছে এবং আগামী দিনে কোন দল প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসবে, তা বাংলার মানুষই ঠিক করবেন। তাঁর দাবি, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণেই আগামী দিনে বিজেপি আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করতে শোনা যায় সুকান্ত মজুমদারকে। রাহুল গান্ধীর বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী কী বলতে চান, তা অনেক সময় রাজনৈতিক মহলই বুঝতে পারে না। এমনকি তাঁর নিজের দলের কর্মীরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।” তাঁর অভিযোগ, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অবস্থান দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হল নেতৃত্বের অস্পষ্টতা। বিজেপির মতে, দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীল ও স্পষ্ট নেতৃত্বের পক্ষেই আস্থা রাখছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির-এর সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। কেউ যদি আইনের প্রতি সম্মান না দেখান, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
বাগডোগরা বিমানবন্দরে সুকান্ত মজুমদারের এই সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। উত্তরবঙ্গকে ঘিরে বিজেপির সাংগঠনিক তৎপরতা যে আরও বাড়ছে, এদিনের বক্তব্যে তারও ইঙ্গিত মিলেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




