কলকাতা, ২১ মেঃ সরকারি কর্মীদের প্রকাশ্যে মন্তব্য করা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি নির্দেশিকায় দাবি করা হয়েছে, সরকারি কর্মীরা বিনা অনুমতিতে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করতে পারবেন না, টেলিভিশনের বিতর্কসভায় অংশ নিতে পারবেন না এবং সরকার বিরোধী কোনও মতামত প্রকাশ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “নীরবতা এখন প্রশাসনিক আবশ্যকতা। এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই নির্দেশিকা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নয়, বরং বাকস্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্যেই জারি করা হয়েছে।
অভিষেক তাঁর পোস্টে দাবি করেন, সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলা, প্রবন্ধ লেখা কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমালোচনা এবং দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এমন কোনও মতপ্রকাশ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
তবে প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই নির্দেশিকার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট মুখপাত্র ছাড়া অন্য কারও সরকারি বিষয়ে মন্তব্য না করার নিয়ম আরও কড়াভাবে কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধরনের নিয়ম নতুন নয়, বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চালু রয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বাকস্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।






